নিউ ইয়র্কের হাসপাতালে কাজী হায়ৎ

নিউ ইয়র্কের হাসপাতালে কাজী হায়ৎ

দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াৎ। হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এই চলচ্চিত্র পরিচালক-প্রযোজক উন্নত চিকিৎসার জন্য বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে ভর্তি আছেন।


পুত্র চিত্রনায়ক কাজী মারুফ তার সঙ্গে রয়েছেন। ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে আজ ১৩ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মারুফ জানান, গত ৬ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য নিউ ইয়র্ক যান তার বাবা।

মারুফ তার পোস্টে লিখেন, ‘আমার বাবার হার্ট থেকে একটি আর্টারি খুলে দেওয়ার জন্য নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের ডাক্তার শর্মাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি সফল হয়েছে। আর ধন্যবাদ জানাই ঢাকার ডাক্তার জাহাঙ্গীর কবিরকে, যিনি ২০০৫ সালে আমার বাবার ওপেন হার্ট সার্জারি করেছিলেন।’

গত জানুয়ারি মাসে নতুন করে হার্টে সমস্যা দেখা দিলে এই নির্মাতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন করেন। তারপর প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে ১০ লাখ টাকা অনুদান পান তিনি।

১৯৯৩ সালে কাজী হায়াৎ-এর হার্টে প্রথম সমস্যা দেখা দেয়। তখন তিনি ভারতের বিরালা হার্ট সেন্টারে গিয়ে চিকিৎসা নেন। সে সময় হার্টে রিং লাগানোর ব্যবস্থা ছিল না। তখন তার হার্টে একটি ব্লক ধরা পড়েছিল।

এরপর ২০০৪ সালে আবারও সমস্যা দেখ দেয়। তখন তার হার্টে ৪টি রিং বসানো হয় রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াকে। এরপর তিন মাস ভালো ছিলেন। ফের আবার অসুস্থ হয়ে যান। তারপর ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়। এরপর থেকেই বেশ ভালোই চলছিল তার। সম্প্রতি আবার অসুস্থতা অনুভব করতে শুরু করেন তিনি।

কাজী হায়াৎ ১৯৭৪ সালে পরিচালক মমতাজ আলীর সঙ্গে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৭৬-১৯৭৭ মৌসুমে বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার আলমগীর কবিরের সঙ্গে ‘সীমানা পেরিয়ে’ ছবিতেও সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৯ সালে ‘দি ফাদার’ ছবিটি পরিচালনার মধ্যে দিয়ে পূর্ণ-পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

কাজী হায়াৎ অর্ধশতাধিক চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন। তার চলচ্চিত্র জীবনে আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও অন্যান্য চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ সর্বমোট ৭৩টি চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন। তিনি চারটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।

দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াৎ। হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এই চলচ্চিত্র পরিচালক-প্রযোজক উন্নত চিকিৎসার জন্য বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে ভর্তি আছেন।