টিম কুকের ‘ইট’ জাকারবার্গের ‘পাটকেল’



টিম কুকের ‘ইট’ জাকারবার্গের ‘পাটকেল’


ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারিতে নাম আসার পর থেকেই একের পর এক ঝক্কি সামলাতে হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের। প্রতিনিয়ত সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তীর ছোড়া ব্যক্তিদের তালিকায় আছেন তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক নামী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তারাও। তাদেরই একজন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক। ২৭ মার্চ ফেসবুক ও জাকারবার্গকে তির্যক মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তিন দিন পর ৩০ মার্চ এর জবাব দিয়েছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ।


২৭ মার্চ এক লাইভ সাক্ষাৎকারে ফেসবুকের সমালোচনা করেন টিম কুক। প্রযুক্তিবিষয়ক পোর্টাল ‘রিকোড’র সাংবাদিক কারা সুইশার অ্যাপলের সিইওর কাছে জানতে চান, মার্ক জাকারবার্গের পরিস্থিতিতে থাকলে কুক কী করতেন? কুকের জবাবটা ছিল সোজাসাপটা। কুক বলেন, ‘আমি কখনোই ওই পরিস্থিতিতে পড়তাম না।’

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবহার নিয়ে জাকারবার্গের সমালোচনা করেন কুক। এদিক দিয়ে ফেসবুকের সঙ্গে অ্যাপলের তুলনা করে তিনি জানান, অ্যাপল কখনোই ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য পাচার করবে না। কারণ গোপনীয়তা বজায় রাখার মৌলিক অধিকার সবার আছে।

শুক্রবারে সংবাদ মাধ্যম ভক্সের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে কুকের এই সমালোচনার জবাব যেন জাকারবার্গ। তিনি মন্তব্য করেন, ‘দামি আইফোন সবাই ব্যবহার করতে পারে না, কিন্তু ফেসবুক এমন একটি সেবা যা সকল শ্রেণীর, সকল আয়ের মানুষ ব্যবহার করতে পারে।’

জাকারবার্গ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘পৃথিবীর সর্বস্তরের মানুষের মাঝে যোগাযোগ ঘটাতে পারে এমন একটি সেবার জন্য সবাই টাকা খরচ করতে পারবে না। এ কারণে বিজ্ঞাপনভিত্তিক একটি সেবাই ছিল সবচাইতে যৌক্তিক সমাধান।’

এক্ষেত্রে আরেক জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব, অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফ বেজোসের উদাহরণ টানেন মার্ক জাকারবার্গ। তার বরাত দিয়ে জাকারবার্গ বলেন, ‘কিছু কোম্পানি দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে, কিছু কোম্পানি দাম কমানোর চেষ্টা করে। ফেসবুক এমন একটি কোম্পানি যা দাম কমানোর চেষ্টা করে এবং সবাই ব্যবহার করতে পারে এমন একটি সেবা বিনামূল্যে দেবার চেষ্টা করে।’

অবশ্য শুধুই ফেসবুকের সমালোচনা করে ক্ষান্ত হননি টিম কুক। এর পাশাপাশি তিনি তথ্য নিয়ন্ত্রণের কথাও বলেছেন। তার মতে, স্ব-নিয়ন্ত্রণের চাইতে ভালো কিছু হতে পারে না, কিন্তু এখন সময় এসেছে আরও বড় পদক্ষেপ নেবার।

অ্যাপল সবসময়েই ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদে রাখার ব্যাপারে শক্ত অবস্থান বজায় রেখে এসেছে। এক্ষেত্রে ২০১৫ সালের একটি ঘটনা উল্লেখযোগ্য। ২০১৫ সালের ২ ডিসেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সান বার্নার্ডিনো এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ১৪ জন নিহত এবং ২২ জন গুরুতর আহত হন। হামলাকারীর ফোনটি আইফোন ছিল। তদন্তে সাহায্যের জন্য এই ফোনটি আনলক করতে অনুরোধ করে এফবিআই। কিন্তু ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষার কারণে ফোনটি আনলক করতে অস্বীকৃতি জানায় অ্যাপল।

ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারিতে নাম আসার পর থেকেই একের পর এক ঝক্কি সামলাতে হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের। প্রতিনিয়ত সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তীর ছোড়া ব্যক্তিদের তালিকায় আছেন তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক নামী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তারাও। তাদেরই একজন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক। ২৭ মার্চ ফেসবুক ও জাকারবার্গকে তির্যক মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তিন দিন পর ৩০ মার্চ এর জবাব দিয়েছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ।