ফেসবুকের ৮ কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস

  facebooker-8-koti-70-lake-baboharkarir-tottho-fash

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক তথ্য বিশ্লেষণী সংস্থা ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার বিরুদ্ধে কয়েক কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য অবৈধভাবে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে গতমাসে। এরপর থেকেই ফেসবুক এবং এর প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল, ৫০ মিলিয়ন তথা পাঁচ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করেছে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা। কিন্তু নতুন তথ্য বলছে এই ঘটনায় আরও বেশি পরিমাণ ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করেছে সংস্থাটি।


৪ এপ্রিল, বুধবার ফেসবুকের চিফ টেকনোলজি অফিসার (সিটিও) মাইক স্ক্রুফারের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা।

ওই দিনই সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ফোনালাপে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ জানিয়েছেন, তাদের হিসাব-নিকাশ বলছে এই তথ্য চুরির ঘটনায় সর্বোচ্চ ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষের তথ্য চুরি হতে পারে। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বন্ধু তালিকার সর্বোচ্চ সীমা বিবেচনা করে এই ফলাফল পেয়েছেন তারা।

জাকারবার্গ বলেন, ‘আমাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে এই সংখ্যা ৮ কোটি ৭০ লাখের বেশি নয়। এর চাইতে কমও হতে পারে। তবে আমরা সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সংখ্যাটা প্রকাশ করতে চেয়েছি।’

তবে এই সংখ্যার ব্যাপারে ফেসবুকের সঙ্গে একমত নয় ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা। তাদের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছিল, ৩০ মিলিয়ন তথা তিন কোটির বেশি মানুষের তথ্য তারা সংগ্রহ করেনি।
ফেসবুকের কোন কোন ব্যবহারকারীর তথ্য ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার হাতে পড়েছে, এটা সামনের সপ্তাহ থেকে জানাতে শুরু করবে ফেসবুক।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় মার্কিন কংগ্রেসের সামনে ১১ এপ্রিল জবানবন্দি দেবেন মার্ক জাকারবার্গ। কংগ্রেসের সদস্য ফ্র্যাঙ্ক প্যালোন বুধবার জানিয়েছেন, সে সময়ে তথ্য গোপনীয়তার ইস্যুতে আলোচনা করতে এই শুনানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ফেসবুক তাদের ব্যবহারকারীর তথ্যের গোপনীয়তা নীতিতে পরিবর্তন আনছে, এটাও জানা গিয়েছে বুধবার। ফেসবুকের চিফ প্রাইভেসি অফিসার এরিন এবং এবং ডেপুটি জেনারেল কাউন্সিলর অ্যাশলি বেরিঙ্গারের এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা আপনাদের ফেসবুকের তথ্য সংগ্রহ, ব্যবহার বা শেয়ারের অনুমতি চাইছি না। অতীতের কোন প্রাইভেসি চয়েজও পরিবর্তন করা হবে না। আমরা কীভাবে তথ্য ব্যবহার করছি তার ব্যাখ্যা করব এবং আপনাকে গ্রুপ, বন্ধু, এবং পেজ সাজেস্ট করার জন্য কেন এই তথ্য জরুরি তা জানাবো।’

ফেসবুকের এই দুই কর্মকর্তার বিবৃতিতে এটাও দাবি করা হয় যে তারা কখনোই তথ্য বিক্রি করবে না।
নতুন এই পলিসির ব্যাপারে ব্যবহারকারীরা সাতদিনের মাঝে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবেন। এরপর নতুন পলিসি কার্যকর করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক তথ্য বিশ্লেষণী সংস্থা ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার বিরুদ্ধে কয়েক কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য অবৈধভাবে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে গতমাসে। এরপর থেকেই ফেসবুক এবং এর প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল, ৫০ মিলিয়ন তথা পাঁচ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করেছে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা। কিন্তু নতুন তথ্য বলছে এই ঘটনায় আরও বেশি পরিমাণ ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করেছে সংস্থাটি।