যত খুশি তত খাও অফার দিয়ে দেউলিয়া রেস্তোরাঁ

যত খুশি তত খাও অফার দিয়ে দেউলিয়া রেস্তোরাঁ

সীমিত মূল্যে যত খেতে পারেন তত খাবারের আনলিমিটেড অফার বাংলাদেশেও বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় পাওয়া যায় বিভিন্ন সময়ে। চীনের এক রেস্তোরাঁ তাদের প্রচার বাড়াতে আনলিমিটেড অফার দিয়েছিল। এতে তাদের প্রচার বাড়ে বটে, কিন্তু রেস্তোরাঁর ক্রেতারা এত বেশি খাওয়া-দাওয়া করেছে যে ঋণের ভারে ডুবে বন্ধ হয়ে গেছে রেস্তোরাঁটি।


আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, এই ঘটনা ঘটে চীনের চেংডু শহরের জিয়ামেনার হটপট রেস্তোরাঁয়। ওই শহরটি প্রচণ্ড ঝাল হটপট ধরনের খাবারের জন্য পরিচিত। হটপটের নিয়ম হলো, কিছু কাটা সবজি, মাংস বাটিতে বাটিতে দেওয়া হয় এবং টেবিলের মাঝখানে একটি বড় পাত্রে ফুটন্ত স্যুপ থাকে। এই স্যুপে সেসব সবজি ও মাংস ডুবিয়ে ডুবিয়ে খাওয়া হয়।

জিয়ামেনার হটপট রেস্তোরাঁটি ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে খোলে। এরপর ২০১৮ সালের ১ জুন থেকে তারা আনলিমিটেড অল-ইউ-ক্যান-ইট অফার দেয়। এই অফারের আওতায়, মাসে কেবল ১২০ ইউয়ান দিয়ে রেস্তোরাঁর সদস্যপদ নিলেই সে ব্যক্তি যত খুশি খেতে পারবেন।

রেস্তোরাঁর এক মালিক, সু জি জানান, রেস্তোরাঁর ওই অফারে বিপুল সাড়া পাওয়া যায়। প্রতিদিন পাঁচশোরও বেশি নতুন ক্রেতা পায় তারা। সকাল ৮টা থেকে ক্রেতার ভিড় জমে রেস্তোরাঁর সামনে। কিন্তু এসব ক্রেতা এত বেশি খাওয়া শুরু করে যে ১১ জুন নাগাদ রেস্তোরাঁর ঋণ জমে ওঠে ৭৬ হাজার ডলার পর্যন্ত। ফলে মালিকরা রেস্তোরাঁটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

এত বড় সমস্যা হবার কারণ, ক্রেতারা নিজেদের সদস্য কার্ডটি নিজে ব্যবহার করার পাশাপাশি আত্মীয় ও বন্ধুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেন। ফলে একই কার্ডের অধীনে একাধিক মানুষ খাওয়া শুরু করেন। ফলে রেস্তোরাঁটি মানুষের খাওয়ার চাহিদা পূরণে ঋণে পড়ে যায়।

রেস্তোরাঁর একজন বেয়ারা জানান, অনেক ক্রেতা ইচ্ছেমত খাওয়ার পর আবার বড় ব্যাগে ভরে খাবার বাড়িতেও নিয়ে যায়।

ওই রেস্তোরাঁ কবে খুলবে, আদৌ খুলবে কিনা তা জানা যায়নি। তবে রেস্তোরাঁ খুললে সদস্যরা  কিছুটা ছাড়ে খাবার কিনতে পারবেন। তবে আগের মতো আনলিমিটেড অফারটি আর থাকছে না।

সীমিত মূল্যে যত খেতে পারেন তত খাবারের আনলিমিটেড অফার বাংলাদেশেও বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় পাওয়া যায় বিভিন্ন সময়ে। চীনের এক রেস্তোরাঁ তাদের প্রচার বাড়াতে আনলিমিটেড অফার দিয়েছিল। এতে তাদের প্রচার বাড়ে বটে, কিন্তু রেস্তোরাঁর ক্রেতারা এত বেশি খাওয়া-দাওয়া করেছে যে ঋণের ভারে ডুবে বন্ধ হয়ে গেছে রেস্তোরাঁটি।